আজ পবিত্র শবে কদর।
আজ পবিত্র শবে কদর।   ছবি: সংগৃহীত

আজ দিনগত রাতে পবিত্র শবে কদর। দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হবে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠতম রজনি। পবিত্র এ রাতেই মহান আল্লাহ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর অবতীর্ণ করেন পবিত্র কোরআন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কোরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কী জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (সুরা কদর, আয়াত: ১–৩)।

মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের আবহে সূর্যাস্তের পর থেকেই সারা দেশে শুরু হবে এ বরকতময় রজনি উদ্‌যাপন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের সঁপে দেবেন মহান আল্লাহর দরবারে। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মাহ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ মহিমান্বিত রাতের জন্য।

পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতীর্ণ হন। শান্তিময় এ রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে’ (সুরা কদর)।

আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, লাইলাতুল কদর এমন এক রাত, যার ইবাদতের সওয়াব হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব এই এক রাতের ইবাদতে পাওয়া যায়। তাই যে ব্যক্তি এই রাতের বরকত লাভ করে, সে সত্যিই সৌভাগ্যবান।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দরজা খুলে দেন। সূর্যাস্ত থেকে ফজর পর্যন্ত বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের আহ্বান জানানো হয়। যে বান্দা আন্তরিকভাবে তওবা করে, সে আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের আশা করতে পারে।

ইসলামি ইতিহাসে বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.) একবার সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেন, যিনি এক হাজার মাস আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন সাহাবিরা আফসোস করে বলেন, তাঁদের আয়ু এত দীর্ঘ নয়; তাঁরা কীভাবে সেই পরিমাণ ইবাদত করতে পারবেন। তখন আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদরের সুসংবাদ দান করেন এবং সুরা কদর অবতীর্ণ করেন, যাতে এ উম্মতের জন্য অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি)। অনেক সাহাবি রমজানের ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদরের রাত হিসেবে ধারণা করেছেন। সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এটি ২৭ রমজানের রাত। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, এ রাত শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে।

এ রাতে মুমিনদের বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পেয়ে যান, তাহলে কী দোয়া করবেন। তখন নবীজি (সা.) তাঁকে এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন—

‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।

এ পবিত্র রাতে একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর দরবারে নিজের ভুল ও পাপের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ মহিমান্বিত রাতের বরকত লাভের তৌফিক দান করুন।