বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।   ছবি সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধাবিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না তিনি, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আইপিএল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে এনডিটিভি ও পিটিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইপিএল বিমা কাঠামোর কারণে মুস্তাফিজকে অর্থ পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই কেকেআরের।

নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে তীব্র দরকষাকষির পর মুস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হয়। ভারতীয় কয়েকজন উগ্রপন্থী নেতার হুমকি ও চাপের বিষয়টিও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি প্রতিবেদনে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার পেছনে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ, চোট বা তার স্বেচ্ছায় আইপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত ছিল না। তবুও কেন তিনি নিলামের বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচ্ছেন না, তা নিয়েই চলছে আলোচনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল সংশ্লিষ্ট সূত্র পিটিআইকে বলেন, আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমার আওতায় থাকে। বিদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালে বা ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর চোট পেলে বিমা সুবিধা পান। সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। তবে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়ার ঘটনা এই কাঠামোর আওতায় পড়ে না।

সূত্রটি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে কেকেআরের এক টাকাও দেয়ার আইনি দায় নেই। ফলে মুস্তাফিজের সামনে তাত্ত্বিকভাবে একমাত্র পথ হতে পারে আইনি লড়াই। তবে আইপিএল যেহেতু ভারতীয় আইনের অধীন, বিদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যান না বা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ মামলা করেন না।

ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক সূত্রের ভাষ্য, এই সম্পর্ক অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঝুঁকি খুব কম ক্রিকেটারই নিতে চান।

সব মিলিয়ে, আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত নিলাম হলেও, মুস্তাফিজুর রহমানের ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি পাওয়া আপাতত অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।