টি–টোয়েন্টি,  বিশ্বকাপ,  আইসিসি, বিসিবি, ভারত,
আইসিসি বিসিবি লোগো।   ছবি সংগৃহীত

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অনুরোধ জানালেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে আইসিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বিসিবি।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে না যাওয়ার আগের সিদ্ধান্তেই বোর্ড অনড় রয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ বা তৃতীয় দেশে আয়োজনের অনুরোধ পুনরায় জানানো হয়েছে।

বিসিবি আরও জানায়, এর আগেও তারা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সর্বশেষ বৈঠকেও সেই অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু অনেক আগেই চূড়ান্ত হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল। এ কারণে তারা বাংলাদেশের প্রতি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। তবে বৈঠক শেষে বিসিবি জানায়, আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মোহাম্মদ শাকাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বৈঠকে বিসিবি স্পষ্টভাবে জানায়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় ভারত সফরে দল পাঠানোর বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরে বোর্ড।

আইসিসি ও বিসিবি উভয় পক্ষই জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইসিসির নির্বাহী পর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।