পাকিস্তান ক্রিকেট দল, পিসিবি, আইসিসি, নিউজিল্যান্ড
কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও পাক অধিনায়ক সালমান আলী আগা   ছবি: সংগৃহীত

কলম্বোতে সুপার এইট পর্ব শুরু হচ্ছে, আর সঙ্গে এসেছে সপ্তাহজুড়ে পূর্বাভাসের সেই বৃষ্টি। বৃষ্টি শহরকে শীতল করার পাশাপাশি নতুন শুরুর অনুভূতিকেও তীব্র করেছে। যে টুর্নামেন্টটি ২০টি দল এবং দিনে তিনটি ম্যাচ নিয়ে ছুটছিল, তা এখন সংকুচিত হয়ে এসেছে। ম্যাচের সংখ্যা কমেছে, সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়েছে, আর স্পটলাইট এখন আর বিক্ষিপ্ত নয়।

কভারের নিচে আক্ষরিক অর্থেই লুকিয়ে আছে সেই অনিশ্চয়তা, যা পরবর্তী পর্বকে সংজ্ঞায়িত করবে। পিচ বা খেলার সারফেস নতুন হোক বা না হোক, এর ওপর নতুন প্রতিপক্ষ খেলবে, নতুন সব হিসাব-নিকাশ কষতে হবে। আর সুপার এইট শুরু করতে যাওয়া দুই দলের জন্য এটি নতুন করে শুরু করার সুযোগ।

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড—উভয় দলই তিনটি করে জয়ে এই দ্বিতীয় পর্বে পা রেখেছে, কিন্তু তবুও যেন একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে তারা তাদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষের কাছে রেকর্ড পরিমাণ দর্শকের সামনে হেরেছে। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ড হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে, আর কলম্বোতে পাকিস্তান হেরেছে ভারতের কাছে। ওই ম্যাচগুলো ছিল নিজেদের শক্তি যাচাই করার মাপকাঠি। টুর্নামেন্টের পরের দিকে তাদের আবার দেখা হবে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে সেই সুযোগ তৈরির সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় হলো এই পর্বটি সফলভাবে পার করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

তাই এই দুটি দলের মাধ্যমেই পরবর্তী অধ্যায় শুরু হওয়াটা যথার্থ মনে হচ্ছে। এটি হবে তাদের ৫০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিক্ততার চেয়ে বরং পারস্পরিক জানাশোনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আগের ৪৯টি ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ২৪টিতে, নিউজিল্যান্ড ২৩টিতে এবং দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো জয়ের ব্যবধানও এখানে খুব সামান্য।

এ ক্ষেত্রে পরিচিতি অবজ্ঞা বা ঘৃণা তৈরি করেনি; বরং প্রতিযোগিতাকে আরও শানিত করেছে। বিশেষ করে আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে, যেখানে পিচ সাধারণত নিচু এবং ধীরগতির হয়, সেখানে শক্তির পাশাপাশি ধৈর্যেরও প্রয়োজন। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চক্রে স্পিনের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড অন্যতম সফল দল। স্ট্রাইক রেটে তারা ভারতের পরেই অবস্থান করছে এবং ডট বল কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।

অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের স্পিন-নির্ভর পরিচয়ের ওপরই আস্থা রাখতে বদ্ধপরিকর। আর যে পিচে স্পিন ধরার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে তাদের এই কৌশলগত বাজি এমন এক ব্যাটিং ইউনিটের বিরুদ্ধে পরীক্ষিত হবে, যারা স্পিনারদের ছন্দ নষ্ট করতে এবং বাউন্ডারি পার করতে সমান পারদর্শী। আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের পিচ প্রায়ই বোলারদের সহায়ক হয়। ম্যাচ এগোনোর সাথে সাথে পিচ ধীর হয়ে যায়। এতে স্পিনাররা বল ঘোরাতে এবং গ্রিপ পেতে সুবিধা পান, ফলে ওভার বাড়ার সাথে সাথে ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান ম্যাচ প্রেডিকশন, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে পাকিস্তান। কলম্বোর পিচ তাদের পক্ষে কাজ করতে পারে। উভয় দলই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে, তাই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া থাকবে।

নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান সম্ভাব্য একাদশ

নিউজিল্যান্ড: টিম সিফার্ট (উইকেটরক্ষক), মার্ক চ্যাপম্যান, ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), গ্লেন ফিলিপস, ড্যারিল মিচেল, লকি ফার্গুসন, জেমস নিশাম, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি।

পাকিস্তান: সাহেবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), উসমান খান (উইকেটরক্ষক), খাজা নাফায়, মোহাম্মদ নেওয়াজ, বাবর আজম, সালমান মির্জা, ফাহিম আশরাফ, উসমান তারিক।

সূত্র : ট্যাপম্যাড ও ক্রিকবাজ

আরটিএনএন/এআই