খেলা, ক্রিকেট, টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপ, নিউজিল্যান্ড, সেমিফাইনাল, ফাইনাল, শ্রীলঙ্কা,
সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ল পাকিস্তান।   ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ শেষে দুই শিবিরেই যেন আনন্দের বদলে হতাশার ছায়া। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দাসুন শানাকা হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন আক্ষেপে। আর জয় পেয়েও পাকিস্তান শিবিরে নেই কোনো উচ্ছ্বাস- কারণ, শুধু জিতলেই চলত না, সেমিফাইনালে উঠতে দরকার ছিল বড় ব্যবধানে জয়।

পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের জয় পেলেও প্রয়োজনীয় রান রেট ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে শেষ চারে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ওপেনারদের রেকর্ড জুটি

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফাখার যামান। তাঁদের ৯৫ বলে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

ফখর ৪২ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রান করে আউট হন দুশমন্ত চামিরার বলে। অন্যদিকে ফারহান খেলেন ঝড়ো ইনিংস- ৬০ বলে ১০০ রান, ৯ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো। এই সেঞ্চুরির পথে এক বিশ্বকাপে ভিরাট কোহলির ৩১৯ রানের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান তিনি। এবারের আসরে ৬ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৩৮৩ রান, সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ ছক্কার নতুন কীর্তি।

তবে এমন দুর্দান্ত সূচনার পরও ইনিংসের শেষভাগে ধস নামে। শেষ চার ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। দুই ওপেনার ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে ২১২/৮ রান করেও তাদের সমীকরণ পূরণ হয়নি।

লঙ্কানদের লড়াই, রত্নায়েকের জবাব

জবাবে ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতে চাপে পড়লেও মাঝপথে ঘুরে দাঁড়ান প্রবান রত্নায়েকে। ১০০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানোর পর ৩৭ বলে ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন প্রায় শেষ করে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচ জমিয়ে তোলেন অধিনায়ক শানাকা। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। প্রথম বলে চার, পরের তিন বলে টানা ছক্কা- হঠাৎ করেই ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। শেষ দুই বলে দরকার ছিল ৬ রান। কিন্তু শাহীন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের দুই ডেলিভারিতে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি শানাকা। শেষ বলটি চোখে ওয়াইড মনে হলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে আক্ষেপ ঝরে লঙ্কানদের কণ্ঠে।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৭ রানেই থামে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান জেতে ৫ রানে, কিন্তু রান রেটের হিসাব না মেলায় বিদায় নিতে হয় তাদের। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাহিবজাদা ফারহান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮
ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*
মাদুশঙ্কা ৩ উইকেট, শানাকা ২/৪২

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬
শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬
আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১

ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান