ইরানি পাঁচ নারী ফুটবলারকে হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার পর তাদের আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোনি বার্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ সোমবার রাতে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
চলমান এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচে অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচজন খেলোয়াড় ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। ইরান সরকার তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করে এবং হোটেল থেকে বের করে দেয়।
আশ্রিত পাঁচ ফুটবলার হলেন—ঘানবারি, জাহরা সারবালি আলিশাহ, আতেফেহ রামেজানিজাদেহ ও মোনা হামুদি—এদের সবার বয়স ত্রিশের কোঠায়—এবং ২১ বছর বয়সী ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ।
টনি বার্ক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আশ্রয়ের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন ছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোর দেড়টায় মানবিক ভিসার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে উপস্থিত সবাই উৎসবে মেতে ওঠেন।
বার্ক বলেন, ‘গত রাতে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর অনেক ছবি তোলা হয়েছে, অনেক আনন্দ হয়েছে। এই নারীরা খুব ভালো ফুটবলার এবং মানুষ হিসেবেও খুব ভালো। তারা অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের বাড়ির মতো অনুভব করবেন।’
এই পাঁচ নারী ফুটবলারের মধ্যে চারজনই বাম-খাতুন ক্লাবের খেলোয়াড়। ইরানের রেকর্ডসংখ্যক ১১ বার নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে বাম-খাতুন ক্লাব। দলটির অধিনায়ক ঘানবারিও চলতি মৌসুমে পার্সেপোলিসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ক্লাবেই ছিলেন।
ঘানবারি ২০২৪ সালে একটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল উদযাপনের সময় তার হিজাব খুলে পড়ে। এরপর তাকে কয়েক দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি ও বাম-খাতুন ক্লাব ক্ষমা চাইলে তাকে আবার খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ইরানের নারী ফুটবলে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা।
রোববার (৮ মার্চ) ফিলিপাইনের বিপক্ষে তাদের এশিয়ান কাপের শেষ ম্যাচেও তার হিজাব বারবার খুলে পড়ে যায়। সেই ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইরান।
বার্ক বলেন, গোল্ড কোস্টের হোটেলে থাকা বাকি ২১ জন খেলোয়াড়ের জন্যও আশ্রয়ের সুযোগ খোলা আছে। তবে তিনি মনে করেন, অনেকে হয়তো ইরানে ফিরে যাবেন।
আরবিএ/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!