দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের সিরিজের নির্ধারণী লড়াইয়ে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। এই জয়ের মাধ্যমে প্রায় ৮৯ মাস পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের ধারায় ফিরে আসে বাংলাদেশ এবং এক যুগ পর আবারও সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে টাইগাররা।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। ফলে সিরিজে সমতা ফিরে আসে ১-১ ব্যবধানে এবং শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে অলিখিত ফাইনাল। সেই চাপের ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এই জয়ে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, পেছনে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। এর আগে ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে প্রথমবার সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছিল টাইগাররা। দীর্ঘ সময় পর আবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হলো।
রোববার (১৫ মার্চ) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯০ রান। ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। যিনি খেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক শুরু করেন তানজিদ ও সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫০ রান তোলে বাংলাদেশ। পরে দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই জুটি ভাঙেন পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদি, যার বলে ৩৬ রান করে বোল্ড হন সাইফ।
এরপর নাজমুল হোসাইন শান্তকে নিয়ে এগিয়ে যান তানজিদ। তবে শান্ত ২৭ রান করে আউট হলে ভাঙে ৫৩ রানের জুটি। কিছুক্ষণ পর সালমান আঘার বলে ছক্কা মেরে ৯৮ বলে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আবরার আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
মধ্যভাগে লিটন দাস ও হৃদয় ৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন। লিটন ৫১ বলে ৪১ রান করে আউট হলেও হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানে নির্ধারিত ওভারে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি উইকেট নেন পেসার হারিস রউফ।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেস জুটি তাসকিন হাসিদ ও নাহিদ রানার গতির সামনে টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। পরে নাহিদের শর্ট বলে আউট হন সাদাকাত এবং তাসকিনের নিচু ডেলিভারিতে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর আব্দুল সামাদ ও গাজী ঘোরি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাহিদ রানার বলে ২৯ রান করে আউট হন গাজী। পরে সামাদ ৩৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিলে পাকিস্তান একশর আগেই পাঁচ উইকেট হারায়।
সেখান থেকে দলকে ম্যাচে ফেরান সালমান আলী আঘা ও সাদ মাসুদ। তারা ৭৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। মাসুদ ৩৮ রান করে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হলে চাপ আবার বাড়ে। এরপর দ্রুত আউট হন ফাহিম আশরাফও।
তবুও একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আঘা। মাত্র ৮৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। তবে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত স্লোয়ারে ১০৬ রান করে আউট হলে পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। কিন্তু স্পিনার রিশাদ হোসাইনের এর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি শাহিন আফ্রিদি। ফলে ১১ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ চারটি, মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি এবং নাহিদ রানা দুটি উইকেট নেন। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এই জয় শুধু একটি সিরিজ সাফল্যই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ইতিহাস দুই দিক থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে থাকল।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!