৫ দশক পর আগামী ৬ মার্চ আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ
৫ দশক পর আগামী ৬ মার্চ আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ   ছবি: সংগৃহীত
মানবজাতিকে চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার জন্য মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস–২’ মিশনের তারিখ। আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশালাকৃতির রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই অভিযান শুরু হবে।
 
এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে ঘুরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং চাঁদকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। যদিও রকেট উৎক্ষেপণ তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ মার্চ ঠিক করা হয়েছে।
 
নাসা সম্প্রতি ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যেখানে রকেটে ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি তরল জ্বালানি ভরা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে হাইড্রোজেন লিকের কারণে প্রথম মহড়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তবে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তা সমাধান করা হয়েছে।
 
আর্টেমিস–২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন:
• রিড ওয়াইজম্যান
• ভিক্টর গ্লোভার
• ক্রিস্টিনা কোচ
• জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)
 
নভোচারীরা প্রাথমিকভাবে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন এবং পরে চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ পদ্ধতিতে উড্ডয়ন করবেন। মিশনে চন্দ্রযান চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে না।
 
চাঁদের দূরবর্তী পাশে উড্ডয়নকালে নভোচারীরা অ্যাপোলো–১৩ মিশনের দূরত্ব রেকর্ড ভাঙতে পারেন এবং ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী হিসেবে নাম লিখাতে সক্ষম হবেন।
 
নাসা এই অভিযানকে ভবিষ্যতের মঙ্গলগ্রহ অভিযান এর জন্য একটি প্রস্তুতি ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এটি চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম পদযাত্রা। সফলতার পর নাসা ‘আর্টেমিস–৩’ প্রকল্পে কাজ শুরু করবে, যার মাধ্যমে ২০২৭ বা ২০২৮ সালে মানুষ ৫৪ বছর পর সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।
 
বর্তমানে চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের নেতৃত্ব ধরে রাখতে নাসা এই মিশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
 
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
 
সিমু/আরটিএনএন