ভূরিভোজ, নোয়াখালী
কারাগারে থাকা অবস্থায় বিয়েবাড়ির ভূরিভোজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত হাজতখানার ভেতরে দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার সপরিবারে বিয়েবাড়ির ভূরিভোজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি কারাগারে থাকা অবস্থায় দুই নেতার পারিবারিক সিদ্ধান্তে আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের বিয়ে হয়। পারিবারিকভাবে গত ৩০ ডিসেম্বর ওই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। পরে মামলার হাজিরার জন্য সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুই নেতাকে আদালতে আনা হলে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাজতখানার ভেতরে বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়।

এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত হাজতখানায় আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, যে কক্ষটিতে ঘটনাটি ঘটে, সেটি মূলত নারী আসামিদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজ আদায় এবং তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ডিউটি বণ্টনের পর তিনি আদালতের ওপরতলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত,’ বলেন তিনি।

এ দিকে আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম আদালতপাড়ায় না ঘটে, সে জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এমকে/আরটিএনএন