ফেনী, পরকীয়া
নিহত আইয়ুব নবী তারেক।   ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিক সন্দেহে আইয়ুব নবী তারেক (২৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান।

নিহত তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি গুনক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ইফতারের পর একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নাহার আমার ছেলেকে তাদের ছেলে নাহিদ ও তার স্ত্রীর চলমান পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ডেকে নেন। তারেক ঘটনাস্থলে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও নাহার দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে আমার ছেলে সেখানে বমি করে।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ছেলের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ওহিদুর রহমান তাকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহতের বাবা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত তারেকের সঙ্গে অভিযুক্ত নাহিদের স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, কিছুদিন আগে সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের সম্পর্ক রয়েছে অভিযোগ করে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তারেক এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না—তা তিনি নিশ্চিত নন।

খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং একটি দেশীয় অস্ত্র (কিরিচ) উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।