ভোলায় একটি স্যালো টিউবওয়েল চাপলেই গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টাও করছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি বাজার-সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ২০ ফুট ভেতরে স্থানীয় জেলে জেবল হক মাঝির বাড়িতে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মেঘনা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা জেবল হক মাঝি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ির উঠানে একটি স্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করেন। প্রায় ৬০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ বোরিং করে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে বুদবুদ শব্দ বের হতে থাকলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে টিউবওয়েলের মুখে আগুন ধরালে তা মুহূর্তেই জ্বলে ওঠে। এরপর থেকে প্রতিবার টিউবওয়েল চাপার পর আগুন দিলে শিখা জ্বলে উঠছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কারও ধারণা এখানে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে, আবার কেউ বলছেন এটি ‘পকেট গ্যাস’—অর্থাৎ মাটির নিচে সীমিত পরিমাণ জমে থাকা গ্যাস।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জেবল হক মাঝিকে পাওয়া যায়নি। তিনি ও তার তিন ছেলে নদীতে মাছ ধরতে গেছেন। তবে কথা হয় তার পুত্রবধূ রাবেয়া বেগমের সঙ্গে।
রাবেয়া বেগম জানান, তার ভাসুর মো. খলিল, জলিল ও স্বামী ইসমাইল মিলে টিউবওয়েলটি বসিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষে পানি না ওঠায় শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। পরে তারা একটি গ্যাসলাইট এনে পরীক্ষা করেন। একজন টিউবওয়েল চাপ দিলে অন্যজন আগুন ধরালে ভেতর থেকে শিখা জ্বলে ওঠে। গত রোববার বিকেল ৩টা থেকে একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে টিউবওয়েলটি দেখছে। কেউ বলছে পকেট গ্যাস, কেউ বলছে গ্যাসের খনি। আমরা কিছু বুঝি না। সরকারিভাবে পরীক্ষা করা হোক—এটাই চাই।”
উৎসুক জনতা ফজলে রাব্বি, ছগির মিয়া, ওয়ারিছ ও সাইফুল বলেন, ভোলায় আগে থেকেই গ্যাসক্ষেত্র থাকায় এখানে গ্যাসের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-কে জানানো হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় পকেট গ্যাস থাকতে পারে, বাস্তবে বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র নাও থাকতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ দ্বীপ জেলা ভোলায় বর্তমানে নয়টি কূপ ও তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর তথ্য অনুযায়ী, জেলার গ্যাসফিল্ডসমূহে মজুদ গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট (টিসিএফ)।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!