নারী উদ্যোক্তা, লাইফস্টাইল, নারী দিবস, সারাদেম,
খাবার তৈরী করছেন এ্যানি।   ছবি: আরটিএনএন

চাকরীর আশা ছেড়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু, আজ কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন অনুজা সাহা এ্যানি।

এমএসসি করার পরও সফলতা মেলেনি, কিন্তু হাল না ছেড়ে নিজ উদ্যোগে পথ তৈরি করেছেন পাবনার গোপালপুরের অনুজা সাহা এ্যানি। মাত্র এক হাজার টাকার ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে বাড়িতে তৈরি খাবার বিক্রি দিয়ে শুরু করা তার ব্যবসা আজ ১৪ বছর পর পরিণত হয়েছে সফল নারী উদ্যোক্তায়। নিজ সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন অন্তত ৪০–৫০ জন নারীর।

অনুজা সাহা এ্যানি (৩৫) ২০০৪ সালে এসএসসি, ২০০৬ সালে এইচএসসি এবং ২০১২ সালে এমএসসি পাশ করেন। বিবাহিত জীবন ও স্বামীর ব্যবসার মন্দাভাবের কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার পর তিনি চাকরির আশা ছেড়ে দেন। পত্র-পত্রিকায় নারী উদ্যোক্তাদের গল্প পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

মায়ের সহযোগিতায় এক হাজার টাকার ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে শুরু করা হোম ডেলিভারী সার্ভিস-এর মাধ্যমে অনুজা এ্যানি পিঠা, কেক, মিষ্টি, বেকারী আইটেম, সাদা ভাত ও বিরিয়ানি সরবরাহ শুরু করেন। এরপর থেকে ঘুরতে থাকে ভাগ্যের চাকা। ধীরে ধীরে ব্যবসা প্রসারিত হয়ে এখন তার নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ‘মায়ের পরশ’ তৈরি হয়েছে। এখানে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা থাকায় তিনি সবাইকে চেনা মুখ হয়ে উঠেছেন।

অনুজা এ্যানি আলাপকালে বলেন, “প্রথমে মা ব্যবসা করার ব্যাপারে অনাগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সংসারের কঠিন বাস্তবতা আমাকে সাহসী হতে শেখালো। হোম ডেলিভারী সার্ভিসের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়ে আমি ব্যবসা চালাতে শুরু করি। আজ ১৪ বছর পেরিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে ভালো আয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসা বিস্তার করার পরিকল্পনা করছি। মেয়েদের বলব, কোনো কাজই ছোট নয়, পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতা থাকলে সফলতা আসবেই।”

অনুজার স্বামী বিপ্লব কুমার বলেন, “প্রথমে ভয় করছিলাম, পারবে কি না। এখন দেখি ব্যবসা ভালো চলছে, পাশে থেকে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে পাবনাবাসীকে আরও ভালো মানের খাবার সরবরাহ করতে চাই।”

পাবনার মানবাধিকার কর্মী কামাল সিদ্দিকী বলেন, “অনুজা সাহা এ্যানির লড়াই শুরু থেকে দেখছি। তিনি সমাজে অন্য নারীদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। তার জন্য আরও সাফল্য কামনা করি।”

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি বলেন, “এ্যানি একজন খুবই সফল নারী উদ্যোক্তা। তাকে দেখে পাবনার অনেক নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। তার মতো নারী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”