চুয়াডাঙ্গার দর্শনা মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে নবজাতক শিশু বদলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মৃত এক শিশুর বাবা সোলায়মান হোসেন সুমন এই দাবি তুলে দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিনি ও তার স্ত্রী নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দর্শনা পৌর শহরের আজমপুর গোরস্থানপাড়ার সোলায়মান হোসেন সুমন জানান, গত ১০ মার্চ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুনিয়া খাতুনকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে সিজার করার পরামর্শ দেন। ১২ হাজার টাকায় চুক্তিতে মুনিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুমন অভিযোগ করেন, মুনিয়াকে যখন অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়, তখন সেখানে অন্য একজনের সিজার চলছিল। সিজারের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নার্স বা আয়ারা নবজাতককে বাইরে আনেননি। উল্টো জরুরি ওষুধের কথা বলে সুমনকে বাইরে পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর একটি কন্যা সন্তানকে মুনিয়ার কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু ১০ মিনিট পার না হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই ৩টায় শিশুটি মারা যায়।
প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিলেও গত রোববার মুনিয়া খাতুন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে কাপড়ের ব্যাগ গোছানোর সময় একটি লাল কাপড়ের টুকরো দেখে আঁতকে ওঠেন। সুমন জানান, ওই লাল কাপড়েই ওটি থেকে নার্সরা শিশুটিকে বের করে দিয়েছিলেন। মুনিয়া তখন দাবি করেন, এই লাল কাপড়টি তার আগে ওটিতে থাকা অন্য এক প্রসূতির নবজাতকের ছিল। এরপরই সুমনের মনে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
সুমন দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মুনিয়ার আগে সিজার হওয়া নারীর পরিচয় জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সুমন জানতে পারেন, ওই নারী হাসপাতালের ম্যানেজার সায়েম হোসেন তুষারের নিকটাত্মীয়। এর আগে ওই নারীর দুটি সন্তান প্রসবের পর শ্বাসকষ্টে মারা গিয়েছিল। ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন বলে জানান সুমন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ম্যানেজার সায়েম হোসেন তুষার জানান, হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, হাসপাতালের অন্যতম দেখভালকারী হাজি আকমত আলী ও ওমর আলী জানান, হাসপাতালটি বর্তমানে '৮২ ব্যাচ' (বি টুগেদার) চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনা করছে, তাই সব দায়ভার তাদের।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোখলেসুর রহমানকে।
ভুক্তভোগী বাবা সোলায়মান হোসেন সুমন সাফ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত তিনি থামবেন না এবং খুব দ্রুতই আদালতে মামলা দায়ের করবেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!