সংঘর্ষ
দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।   ছবি: আরটিএনএন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা–নাগেরগাতী বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দত্তখিলা–নাগেরগাতী বাঁধের কারণে মেদার বিল এলাকার বোরো ধান পানির হাত থেকে রক্ষা পেলেও বিপাকে পড়েছেন পার্শ্ববর্তী পোগলা ইউনিয়নের কৃষকরা। এই বাঁধের কারণে কান্দুলিয়া বিলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে তাদের বিস্তীর্ণ জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক বাঁধটি কাটতে গেলে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী (৪৫) ও ইসরাইল (৩০)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রুবেল, আনিছ, মাসুদ ও হেলালের নাম জানা গেছে।

বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকদের দাবি, বাঁধটি তাদের সীমানার ভেতরে অবস্থিত। পোগলা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর মেম্বার ও রতনের নেতৃত্বে একদল লোক এসে অবৈধভাবে বাঁধটি কেটে দেয় এবং হামলা চালায়।

অন্যদিকে পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় তাদের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, তাই তারা বাধ্য হয়ে বাঁধ সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, উত্তেজিত জনতার চাপের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণ ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফলে মেদার বিলসহ গুড়াডোবা বিলের কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারেন স্থানীয় চাষিরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন দুই ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।