শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুয়েট উপাচার্যের মতবিনিময় সভা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা।   ছবি: আরটিএনএন

খুলনার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসান আলী, উপ-পরিচালক সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহমুদুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মেকানিক্যাল বিভাগের এক শিক্ষার্থী তাহনভীর খান মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা 

সেবার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ওষুধ ও পরীক্ষার সুবিধা নেই। প্রায় ৩৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এক্স-রে সুবিধাও চালু নয়। একই সঙ্গে দ্রুত ফল প্রকাশ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন চালুর দাবি জানান তিনি।

টেক্সটাইল বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফুয়াদ হলে মশার উপদ্রব ও মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অন্য শিক্ষার্থীরা বাস সংকট, ওয়াইফাইয়ের ধীরগতি, ডাস্টবিনের অভাব, ক্লাসরুম সংকট, আবাসিক হলের পানির সমস্যা, ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও ভর্তুকি পুনরায় চালুর বিষয় তুলে ধরেন। রোকেয়া হলের এক শিক্ষার্থী ঝড়-বৃষ্টির সময় ছাদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে সিলিং ভেঙে পড়ার আশঙ্কার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এছাড়া ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়েও শিক্ষার্থীরা মতামত দেন।

উপ-পরিচালক সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহমুদুল আলম ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, ক্যাফেটেরিয়া আধুনিকায়ন, জিমনেশিয়ামের সরঞ্জাম মেরামত ও নতুন সরঞ্জাম সংযোজন, সুইমিং পুল দ্রুত চালু, এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসকে খুলনাবাসীর জন্য আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন উন্মুক্ত রয়েছে। ছাত্রকল্যাণ কেন্দ্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওয়াশরুম উন্নয়ন, ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বলেন, একাডেমিক ও গবেষণামূলক বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থী-শিক্ষকের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপ কমাতে চূড়ান্ত পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যবর্তী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনাধীন রয়েছে এবং আগামী সেমিস্টার থেকে তা চালু হতে পারে।

উপাচার্য আরও বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে ১২০০ আসনবিশিষ্ট দুটি নতুন হল নির্মাণাধীন রয়েছে। মেডিকেল সেন্টারে এক্স-রে সেবা এক মাসের মধ্যে চালু করা হবে। পাশাপাশি এক স্যাম্পলে রক্তের ৬৫টি পরীক্ষা করা যায় এমন আধুনিক যন্ত্র এবং ডেন্টাল সেবা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা প্রায় ১৬ কোটি টাকার ল্যাব যন্ত্রপাতি চালুর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি পার্ককে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এনে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করা হবে এবং একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরির কাজ চলছে।

সভায় উপাচার্য চার বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান, ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনার সফলতা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই মূল্যায়িত হবে।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঘোষিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।