দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পূর্ণ করে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন ছিল শিক্ষার্থীশূন্য ও অনাড়ম্বর, যা ক্যাম্পাসজুড়ে নানা প্রশ্ন ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
এরপর একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নিলেও শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরবর্তীতে টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. হামিদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মামুন-অর-রশিদ।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রগতি, গবেষণার বিস্তার এবং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে পবিপ্রবির অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রতিষ্ঠার দুই দশকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো আয়োজন পূর্ণতা পায় না বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। ভবিষ্যতে সকল পক্ষের অংশগ্রহণে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাণবন্ত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের। ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দল-মত-সংগঠনের ঊর্ধ্বে উঠে আগামীতে সবাইকে সম্পৃক্ত করে আরও সমন্বিত আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীশূন্য আয়োজন নিয়ে ক্যাম্পাসে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজুল হক চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সাধারণত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, স্মারক টি-শার্ট, ক্যাপসহ বিভিন্ন উদ্যোগ থাকে। কিন্তু এবার উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে এত সাদামাটা করে ফেলেছে—যা সত্যিই দুঃখজনক।” তিনি ভবিষ্যতে প্রশাসনের আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে এমন আয়োজন আমাদের হতাশ করেছে।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান বলেন, রমজান মাস থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন”।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুন-অর-রশিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীশূন্য হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রমজান মাসে শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত স্বস্তিময় পরিবেশে ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় উপস্থিতি কম ছিল। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও প্রতিবছরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান”।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল ভিসি ও ট্রেজারারের অনুপস্থিতির পেছনে আয়োজক কমিটির কোনো ঘাটতি ছিল কি না? প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “ভিসি ও ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সর্বোপরি প্রশাসনিক জটিলতা ও রমজান মাসের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন”।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দুই যুগ অতিক্রম করলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান এবার স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!