যবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জোরালো উদ্যোগ, শিক্ষা, যবিপ্রবি, বিদ্যুৎ, সাশ্রয়,
উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল মজিদের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়ার দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী মনিটরিং কমিটি ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে নিয়মিত তদারকি, সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল মজিদের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় লিফলেট হস্তান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ড. হোসেন আল মামুন। অনুষ্ঠানে কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পরপরই কমিটির সদস্যরা প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে পরিদর্শন চালান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেন। জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ, দপ্তর ও আবাসিক হলে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।

কোষাধ্যক্ষ ড. হোসেন আল মামুন বলেন, “আজ থেকে আমাদের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্ট্যান্ড ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি মনিটরিং কমিটি নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাবে।”

কী আছে লিফলেটে?

বিতরণকৃত লিফলেটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাস্তবমুখী ১০টি নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখা
  • প্রয়োজন ছাড়া ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা
  • এসির তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা
  • অফিস ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করা
  • করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে সীমিত আলো ব্যবহার
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া
  • অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ অপচয় কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।