ইবিতে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় শিবিরের হেল্পডেস্ক, সন্তুষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে হেল্প ডেস্ক।   ছবি: আরটিএনএন

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ইবি কেন্দ্রের প্রধান ফটকে পরীক্ষার্থীদের সেবা প্রদানে হেল্প ডেস্ক বসিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে পানি, কলম, স্যালাইন ও ফাইলসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করছেন সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়  তথ্য প্রদান এবং অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করা করেছে সংগঠনটি। 

এদিকে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনই নিজ নিজ উদ্যোগে সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চুয়াডাঙ্গা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থী রুহুল আমিন বলেন, “তাড়াহুড়োর কারণে কলম আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। পরে কেন্দ্রে এসে হেল্পডেস্ক থেকে বিনামূল্যে কলম পেয়েছি। একই সঙ্গে পানির বোতলও পেয়েছি এবং স্যালাইনও রাখা আছে দেখতে পেলাম। তীব্র গরমে অনেকেই কষ্ট পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।”

অন্যদিকে, এক অভিভাবক বলেন, আমরা তো এখানকার কিছু চিনি না। হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে এখানের শিক্ষার্থীরা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। আমাদের বসার জায়গা করে দিয়েছেন। কিছু প্রয়োজন হলেই বলার সঙ্গে সঙ্গে সেটা পাচ্ছি। প্রচণ্ড গরমে খাবার স্যালাইনসহ সুপেয় পানির যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। এটা সত্যিই খুব ভালো একটি উদ্যোগ।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমরা পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। হেল্পডেস্কের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানসহ খাবার পানি, চকলেট, টিস্যু ও কলম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি মেডিকেল টিম কাজ করেছে আজ। সেখানে আমরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ করেছি। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ব্যাগ নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও সময় কাটানোর জন্য কিছু পাঠযোগ্য সামগ্রীও রাখা হয়েছিল। আজকের কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ইতিবাচক সাড়া আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা আশা করি, আমাদের এই ছোট উদ্যোগগুলো তাদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমাতে সহায়তা করেছে।”