রাজস্ব আদায়, শেষ প্রান্তিক, অস্বাভাবিক চাপ,
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতিতে পড়েছে এনবিআর।   ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতিতে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সময়ে শুল্ক–কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। ফলে বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাকি চার মাসে আদায় করতে হবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চাপ তৈরি হয়েছে—যা বিদ্যমান প্রবণতার তুলনায় অনেক বেশি।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে জানুয়ারিতে। এই মাসে আূায় হয় ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। আর ফেব্রুয়ারিতে একক মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় শেষ প্রান্তিক ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি মনে করেন, এপ্রিল–জুন সময়ে রাজস্ব আহরণ বাড়বে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হতে পারে।

তবে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর অঞ্চল, ভ্যাট কমিশনারেট ও কাস্টমস হাউজের অনেক কর্মকর্তা এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, এতো বড় ঘাটতি পূরণ করতে হলে শেষ প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণে অস্বাভাবিক গতি আনতে হবে। একই সঙ্গে করভিত্তি বাড়ানো, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।