ডিএসই
ডিএসই।   ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটিরও বেশি। টানা দরপতনে বাজার মূলধন কমলেও উল্টো বেড়েছে লেনদেন।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।

বাজার মূলধনের পাশাপাশি বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। সপ্তাহজুড়ে সূচকটি ১৪৮.৬৬ পয়েন্ট বা ২.৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২১৯.৭৪ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৫ হাজার ৩৬৮.৪০ পয়েন্ট।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭২টির। বিপরীতে ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টির। এছাড়া ২২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে কোনো লেনদেন হয়নি।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। ভালো মানের কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৮৫.৮৯ পয়েন্ট বা ৪.১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০.৩৬ পয়েন্টে। একইভাবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯.৮৪ পয়েন্ট বা ১.৮৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯.৫৮ পয়েন্টে।

তবে সব সূচকের চিত্র একরকম ছিল না। ছোট মূলধনী কোম্পানির সূচক ডিএসএমইএক্স উল্টো ইতিবাচক ধারা দেখিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে এই সূচক ১৩৪.৩৮ পয়েন্ট বা ১৪.৪৪ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারে আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৫.৭৮ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ফলে বাজারে একদিকে দরপতন, অন্যদিকে লেনদেন বৃদ্ধির এই বৈপরীত্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।