৪০ পেরোনোর পর কি রোজ ডিম খাওয়া নিরাপদ?
৪০ পেরোনোর পর কি রোজ ডিম খাওয়া নিরাপদ?   ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। তবে অনেকের ধারণা—৪০ বছর পার হলে, বিশেষ করে হৃদ্‌রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থাকলে ডিম খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা ছাড়া যেকোনো বয়সেই প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া নিরাপদ।

ডিমের কুসুম নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও এর পরিমাণ এত বেশি নয় যে তা সরাসরি কোনো রোগের কারণ হবে। বরং ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম একসঙ্গে খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ আমিষ ও নানা পুষ্টি উপাদান। ডিমে ভিটামিন এ, ই, বি-কমপ্লেক্স, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ ছাড়াও আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম ও কোলিন রয়েছে, যা সব বয়সের মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের জন্য একমাত্র ডিম দায়ী নয়। বরং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি লবণ ও চিনি গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং শরীরচর্চার অভাব—এসবই মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ার চেয়ে সামগ্রিক জীবনধারাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও সাধারণত প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন। তবে কোনো দিন শরীর খারাপ লাগলে বা রক্তচাপ বেশি থাকলে সেদিন ডিম না খাওয়াই ভালো। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া যাদের ডিমে অ্যালার্জি আছে, তাদের ডিম এড়িয়ে চলা উচিত।

সাধারণভাবে দিনে একটি ডিমই যথেষ্ট। তবে কেউ যদি মাঝেমধ্যে অন্য কোনো আমিষ না পেয়ে অতিরিক্ত একটি ডিম খান, তাতে সমস্যা নেই। আবার যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে থাকেন বা শরীরে আমিষের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ডিম খাওয়ার দরকার হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

সবশেষে বলা যায়, ৪০ পেরোনোর পর ডিম খাওয়া বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে।