বড়দেরও হতে পারে হাম।
বড়দেরও হতে পারে হাম।   ছবি: সংগৃহীত

হাম শুধু শিশুদের রোগ—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। হাম বড়দেরও হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি শিশুদের তুলনায় বেশি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় পূর্ণ টিকা নেননি বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি বেশি।

কেন বড়দের হাম বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হাম থেকে জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এর মধ্যে রয়েছে-নিউমোনিয়া, হেপাটাইটিস, মস্তিষ্কজনিত জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা। 

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

লক্ষণগুলো চিনে রাখুন

হামের লক্ষণ সাধারণত ভাইরাসে সংক্রমণের ১০–১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়—

জ্বর, ক্লান্তি, শুকনো কাশি
নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া
মুখের ভেতরে কপলিক স্পটস (সাদা দাগ)
পরে মুখ ও শরীরে লালচে র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়া

সংক্রমণের কারণ

এমএমআর টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ থাকা
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা (হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়)
 সম্ভাব্য জটিলতা

গুরুতর ক্ষেত্রে হতে পারে—শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনাইটিস, শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ‘এসএসপিই’ নামের মারাত্মক মস্তিষ্কের রোগ। 
প্রতিরোধ ও করণীয়

টিকাদান: এমএমআর টিকা নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ
ভিটামিন এ: রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়ক
আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৫–৭ দিন আইসোলেশনে রাখা
পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত ধোয়া ও হাঁচি-কাশিতে সতর্কতা
বিশ্রাম ও পুষ্টি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল/ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ

সতর্কবার্তা

জ্বরের সঙ্গে শরীরে দানা বা চোখ লাল হয়ে গেলে অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হাম গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সচেতনতা ও সময়মতো ব্যবস্থা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।