পান্তাভাত যে শুধু গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার—তা এখন বিশ্বজুড়েই আলোচনায়।
পান্তাভাত যে শুধু গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার—তা এখন বিশ্বজুড়েই আলোচনায়।   ছবি: সংগৃহীত

পান্তাভাত যে শুধু গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার—তা এখন বিশ্বজুড়েই আলোচনায়। বিশেষ করে গরমের সময় জনপ্রিয় এই খাবারটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়। গবেষকদের মতে, লাল চালের পান্তাভাত সাদা চালের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর এবং এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা অণুপুষ্টি উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভাত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এতে গাজনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভাতের অ্যান্টি-পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক, ফসফরাস ও ভিটামিন বি–এর পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে এতে উপকারী জীবাণু তৈরি হয়, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পান্তাভাত রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গবেষণার তথ্য বলছে, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ ভাতে আয়রনের পরিমাণ থাকে ৩ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। কিন্তু ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা পান্তাভাতে এর পরিমাণ বেড়ে হয় ৭৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম। একইভাবে পান্তাভাতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়।

১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে ক্যালসিয়াম থাকে ২১ মিলিগ্রাম, সেখানে পান্তাভাতে থাকে ৭৮৫ মিলিগ্রাম। পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৭৯৯ মিলিগ্রাম, যা সাদা ভাতে থাকে ৭৭ মিলিগ্রাম।

এ ছাড়া ম্যাগনেশিয়াম ও জিংকের উপস্থিতিও অনেক বেড়ে যায়। পান্তায় ৬৮ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম আয়রন আছে, যা সাদা ভাতে থাকে ২ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম। তাই রক্তশূন্যতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ফুড অ্যান্ড হিউম্যানিটি–তে পান্তাভাত নিয়ে নতুন এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সেই গবেষণার পান্তায় অনেকগুলো নতুন অণুজীব পাওয়ায় কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা। পান্তায় প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে পারে। এই গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নতুন তথ্য হলো পান্তা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হারে বাড়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ভিজিয়ে রাখলে এতে অ্যালকোহল তৈরি হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিয়মিত পান্তাভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিষ্কার পানি ও পাত্র ব্যবহার না করলে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মাতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।