ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৫ জনে ।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৫ জনে ।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন । মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে এ খবর নিশ্চিত করে ফক্স নিউজ।

রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বন্দর আব্বাস ও বোজনুর্দ শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)’ ভবনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর কড়াকড়ি থাকায় এ তথ্যের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে ফক্স নিউজ বলেছে, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়েছে।

ইরানে আজইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। তেহরান ছাড়িয়ে বিক্ষোভ কোম শহর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ায় তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে, যা জনমনে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে,  এ আন্দোলনে রাস্তায় আগুন জ্বালানো, সরাসরি গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহারের চিত্র বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে, তবে সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে ইরানকে ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিপরীতে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে । তার নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডে যেকোনো আঘাতকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান আরও জানিয়েছে, যেকোনো হামলা বা অব্যাহত শত্রুতামূলক আচরণের বিপরীতে তারা চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে।

 আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা স্বীকার করলেও এ দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য ‘বাইরের শক্তিকে’ দায়ী করেছেন।

বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী সরকারি কর্মকর্তাদের।