মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেকে  নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেকে  নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।   ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি ও এপি’র প্রতিবেদন। 
 
ট্রাম্পের সঙ্গে মাচাদোর এটিই প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। তিনি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার নিয়ে কাজের জন্য ।এই বৈঠককে মাচাদো ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 
 
ট্রাম্প এই পদক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি জানান, ‘এই পুরস্কার পারস্পরিক শ্রদ্ধার চমৎকার নিদর্শন।’

মাচাদো যখন গেল বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, তখন ট্রাম্প এই সম্মাননা না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো গেটের বাইরে অপেক্ষারত সমর্থকদের উদ্দেশে জানান যে, ভেনেজুয়েলাবাসী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। মাচাদো ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তার এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে এটি বোঝানো, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী দেলসি রদ্রিগেজের বদলে তার নেতৃত্বাধীন জোটই দেশটির শাসনভার পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার।

তবে এই পদক হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গেল সপ্তাহে মাচাদো যখন এই পদক ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়। এক বিবৃতিতে কমিটি জানায়, ‘একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী।’ একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী’ উপাধিটি অপরিবর্তিত থাকে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে মাচাদোর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। 

২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো নিজেকে জয়ী দাবি করলেও মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারিত করার পর ট্রাম্প মাচাদোকে সরাসরি সমর্থন না দিয়ে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

এমআর/আরটিএনএন