দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভেনিজুয়েলা সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন আইনপ্রণেতা এবং আসন্ন নির্বাচনের একজন প্রার্থীও রয়েছেন। বুধবার কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বিমানে থাকা ১৫ জন আরোহীর সবার মৃত্যু হয়েছে। মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘দেশের জন্য শোকের মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার সময়
সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক এয়ারলাইনস ‘সাতেনা’ (Satena) দ্বারা পরিচালিত বিমানটি দেশটির নর্থ সান্তান্দার বিভাগের কুকুতা শহর থেকে ওকানা শহরে যাচ্ছিল। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ওকানায় অবতরণের ঠিক ১১ মিনিট আগে বিমানটি হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এর উচ্চতা দ্রুত কমতে থাকে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কলম্বিয়ার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সদস্য ডায়োজিনিস কুইন্তেরো। তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভুক্তভোগীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের আইনপ্রণেতা ছিলেন। এছাড়া তার সাথে ছিলেন কার্লোস সালসেদো সালাজার, যিনি আসন্ন নির্বাচনে ওই একই আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। বিমানে দুইজন ক্রুসহ মোট ১৫ জন যাত্রী ছিলেন।
তদন্ত ও উদ্ধারকাজ
কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা রোজাস এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রোটোকল ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।” সিভিল অ্যারোনটিকস প্রশাসন এরই মধ্যে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ এবং দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনাস্থলটি ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা না গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাস্থলের প্রেক্ষাপট
যে অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি ‘কাটাতুম্বো’ অঞ্চল নামে পরিচিত। ভেনিজুয়েলা সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি কোকেন উৎপাদনের প্রধান উপাদান ‘কোকা’ চাষ এবং মাদক বাণিজ্যের জন্য কুখ্যাত। এছাড়া এটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের একটি সক্রিয় অঞ্চল। দুর্গম এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য গত বছরের জুনে কুকুতা থেকে ওকানা রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছিল, যা এখন এই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!