পাকিস্তান, ইসলামাবাদ, বোমা হামলা
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বোমা হামলা এবং পুলিশ ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছে   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বোমা হামলা এবং পুলিশ ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অশান্ত বাজাউর জেলায় এক হামলায় ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং একটি শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও সাতজন আহত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জাফর খান বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির দিকে যাওয়ার সময় বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের একটি ভবন ধসে পড়লে একটি মেয়েশিশু নিহত হয়।

এর আগে সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার আরেকটি জেলা বান্নুতে একটি পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথের কাছে পার্ক করা মোটরবাইকে রাখা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হলে দুজন নিহত হয় বলে উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান। ওই এলাকাটি আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বান্নুর ওই হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। বাজাউরের সহিংসতা সম্পর্কে এএফপি জানিয়েছে, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে জেলার একটি মাদ্রাসার (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) দেয়ালে আঘাত হানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “এর ফলে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্যরা শহীদ হয়েছেন।” বাজাউরের নিরাপত্তা চৌকির বিস্ফোরণ এবং মাদ্রাসার হামলার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা নাকি দুটি পৃথক ঘটনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ জানিয়েছে, প্রদেশের শাংলা জেলায় এক তল্লাশি অভিযানের সময় তিন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত যোদ্ধারা “চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায়” জড়িত ছিল। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা ফিরে আসার পর ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে।

২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে পাকিস্তানে হামলায় ২,৪০০-এর বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের মৃত্যুসংখ্যা (প্রায় ২,৫০০) ছাড়িয়ে গেছে। ইসলামাবাদ এসব হামলার অধিকাংশের জন্য পাকিস্তান তালেবান বা টিটিপিকে দায়ী করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটির নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছেন। টিটিপির সদস্যরা মূলত আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকাগুলো থেকে আসা।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই