ইরান, হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি।   ছবি: আরটিএনএন

নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটি।

রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত জলপথটি বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

আইআরজিসি বিবৃতিতে যোগ করে, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সর্তক করেছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি ইরানকে বারবার হুমকি দিচ্ছে, যাতে তারা হরমুজে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা তৈরি না করে।

ইরান বারবার বলে আসছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। পার হতে গেলে হামলা চালানো হবে।

আজ ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (আইএমও) নিযুক্ত দেশটির প্রতিনিধি আলী মুসাভির বরাতে জানায়, যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌযানের জন্য উন্মুক্ত। তবে ‘শত্রু’ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত কোনো জাহাজ এ সুবিধার আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার কারণেই মূলত প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।

তবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ছয়টি দেশ জানিয়েছে, যুদ্ধে প্রায় অচল হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ তারা যোগ দিতে প্রস্তুত। দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা