গাজায় সাগরতীরে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনেও শিক্ষাব্যবস্থা ধসে পড়েনি, সাগরতীরে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।   ছবি: সংগৃহীত

গাজায় প্রায় আড়াই বছর ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনের ধ্বংসলীলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে শত শত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে, এমন পরিস্থিতিতেও গাজার শিক্ষাব্যবস্থা থেমে যায়নি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাজার শিক্ষার্থীরা সমুদ্র সৈকতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। এই দৃশ্যটি বিশ্ববাসীর মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

ভিডিওটির সাথে অনেকে লিখেছেন, ‘গাজার শিক্ষার্থীরা স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও সৈকতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। কে পারবে এই মানুষের ইচ্ছাশক্তি ভাঙতে?’ অন্যদিকে, আরেকজন লিখেছেন, ‘হানাদাররা স্কুল ভেঙেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা মেরেছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর মনোবল ভাঙতে পারেনি এবং পারবেও না।’

এদিকে, ভিডিওটির স্থান, সময় এবং মানুষ সত্যি হলেও এটি পুরনো। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে গণিত পরীক্ষার সময়ে এই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল, জানায় আল জাজিরা।

তবে গাজার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ইসরাইলি হামলার বাস্তবতা মিথ্যা নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি স্কুল এবং ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া, আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরও ৩০৫টি প্রতিষ্ঠানের। ইসরাইলি হামলায় ১২,৮০০-রও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৭৬০ জনেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিহত হয়েছেন। এই আগ্রাসন চলমান থাকায়, ৭ লাখ ৮৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে, গাজার শিক্ষার্থীদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিরোধের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষিত হয়েছে।