মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।   ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির প্রত্যাশা না থাকলেও কিছু আশাব্যঞ্জক দিক দেখা যাচ্ছে। উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে, যা আলোচনার সূচনাকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা কমাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তির বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো জটিল ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত থাকায় এখনই চূড়ান্ত সাফল্যের ঘোষণা দেওয়া সময়োপযোগী নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা স্বল্প সময়ে নিরসন সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্পর্ক চিরস্থায়ী শত্রুতায় আবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, একটি প্রাথমিক চুক্তির লক্ষ্যে এগোতে হলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো সংবেদনশীল আলোচনা পরিহার করা উচিত। একইসঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা ইতোমধ্যে ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছিল। পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে এগোলে উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

তবে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে ইসরায়েলকে দেখা হচ্ছে। মার্কিন নীতিনির্ধারণে তেল আবিবের প্রভাব যতদিন নিয়ন্ত্রণে না আসবে, ততদিন এই সম্পর্কের উন্নয়ন কঠিন হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ইসলামাবাদের আলোচনার পরও ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ—ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পথে এগোনো, অথবা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা। প্রথম পথটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রচেষ্টায় উত্তেজনা কমানোর একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া।

সূত্র: ডন