বিবিসি, মাহদী
বিবিসিকে মাহদীর পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া ও মানহানিকর’ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন হবিগঞ্জের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান।

গত রোববার (৮ মার্চ) পাঠানো ওই নোটিশে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে ১ কোটি টাকার মানহানি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

মাহদীর পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, মাহদী হাসান ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী একজন ছাত্রনেতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি। ওই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে এতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের সময় বহু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে এবং অসংখ্য মানুষ আহত ও গ্রেপ্তার হন।

নোটিশে আরও বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভ ঘিরে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে।

আইনজীবীর দাবি, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন—‘মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?’—এ বেশ কিছু তথ্য ভুল ও ভিত্তিহীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুটি অপ্রকাশিত ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা নিতে গিয়েছিলেন, দিল্লির একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন এবং তার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল—এমন দাবি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এছাড়া এক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা মাহদীর পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এসব তথ্য প্রকাশের ফলে মাহদী হাসান সাইবার আক্রমণ, সামাজিক অপমান ও হামলার শিকার হয়েছেন। এতে তার মানসিক কষ্ট ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এ অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া এবং বিবিসি বাংলার সব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পত্রপ্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর মানহানি সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী মামলা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কেবল আইনি ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং সত্য প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।