সুপার কম্পিউটার, ব্রেন
কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে যেমন স্লো হয়ে যায়, তেমনি খারাপ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্ট্রেস ও অনিয়মিত জীবনযাপন ব্রেনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   ছবি: আরটিএনএন

একটি কম্পিউটার যখন ধীরে কাজ করতে শুরু করে, তখন আমরা সেটি রিস্টার্ট দিই। রিস্টার্ট দিলে সেটি আবার নতুনের মতো দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। আমাদের মস্তিষ্কও ঠিক তেমনই- এটি একটি “রিস্টার্ট সিস্টেম”। সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন নিলে ব্রেন আবার নতুন শক্তি ফিরে পেতে পারে।

মস্তিষ্ক অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অঙ্গ। এটি একই সঙ্গে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মতো কাজ করে। নিউরন হচ্ছে এর মূল উপাদান বা গঠন। অসংখ্য নিউরন একসঙ্গে কাজ করে আমাদের চিন্তা, স্মৃতি, সিদ্ধান্ত ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে।

যেমন কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে সেটি স্লো হয়ে যায়, তেমনি খারাপ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্ট্রেস ও অনিয়মিত জীবনযাপন ব্রেনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ব্রেনকে সুস্থ রাখতে হলে তাকে “ক্লিন” বা ডিটক্স করার প্রয়োজন আছে।

মস্তিষ্ক একটি এনার্জি-ফ্যাক্টরি। এটি শরীরের তুলনায় অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে। এই শক্তির প্রধান উৎস হলো গ্লুকোজ। কিন্তু অতিরিক্ত উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার (যেমন ফাস্টফুড, প্রসেসড খাবার, নুডলস, সসেজ, হটডগ, ফ্রোজেন পিজা ইত্যাদি) ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার মস্তিষ্কে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

ব্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হিপোক্যাম্পাস, যা স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সঠিক পুষ্টি না পেলে এই অংশ দুর্বল হয়ে যায়। ব্রেন সুস্থ রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দরকার:

১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: এটি মস্তিষ্কের কোষকে শক্তিশালী করে এবং প্রদাহ কমায়। মাছ, বাদাম, বীজ ইত্যাদিতে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।

২. কোলিন (Acetylcholine): এটি স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। ডিমসহ কিছু খাবারে কোলিন পাওয়া যায়।

৩. ম্যাগনেসিয়াম: এটি স্নায়ু শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে।

৪. ডার্ক চকলেট: পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট ব্রেনের জন্য উপকারী হতে পারে, কারণ এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

এছাড়া মস্তিষ্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষ্কারক ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে “গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম” বলা হয়। এটি মূলত ঘুমের সময় সক্রিয় হয় এবং মস্তিষ্কের বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে। তাই ভালো ঘুম ব্রেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে, ব্রেনকে সুস্থ রাখতে হলে-

  • সঠিক খাবার খেতে হবে
  • উচ্চ চিনি ও প্রসেসড খাবার কমাতে হবে
  • পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

যেভাবে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিলে দ্রুত কাজ করে, ঠিক তেমনি সঠিক যত্নে আমাদের মস্তিষ্কও আরও কার্যকর ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

আরবিএ/আরটিএনএন