এলপিজি আমদানি করতে বিপিসি-কে নীতিগত অনুমতি দিয়েছে সরকার।
এলপিজি আমদানি করতে বিপিসি-কে নীতিগত অনুমতি দিয়েছে সরকার।   ছবি: সংগৃহীত

দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) নীতিগত সরকার অনুমতি দিয়েছে ।

রোববার রাতে গণমাধ্যকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আমদানি করা হবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে ও দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে।


তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমদানি করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসি-কে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপাতত সরকার শুধু এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই। এসব কাজ বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই করা হবে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে বলে মনে করছে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য  নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সম্প্রতি দেশে এলপিজির সংকট দেখা দিলে তা আমদানির অনুমতি চেয়ে বিপিসি ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় । চিঠিতে বলা হয়, দেশে এলপিজির বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। সরবরাহ-ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো।

প্রাথমিকভাবে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও কাতারকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক কম দামে ও সহজ শর্তে যেসব দেশ এলপিজি সরবরাহ করতে পারবে, তাদের কাছ থেকেই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমআর/আরটিএনএন