সাংবাদিক নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা কথা বলছেন।   ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের জন্য ইস্যু করা কার্ড ও গাড়ির স্টিকার–সংক্রান্ত জটিলতা আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমাধানের আলটিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা জানান।

নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনো নীতিমালার কোনো সংশোধন হয়নি।

তিনি বলেন, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন অনলাইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কার্ড ও স্টিকার আবেদনের জন্য একটি নতুন অ্যাপ চালু করেছে। অ্যাপটি ব্যবহারবান্ধব নয়। এতে বর্তমানে যেমন সমস্যা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাজী জেবেল আরও বলেন, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী রোববারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচার নিয়ে সাংবাদিক নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন থেকে সাংবাদিকদের যে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়া হয়, সেটির জন্য এবার নতুন একটি অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি মোটেও ব্যবহারযোগ্য নয় বলে কমিশনের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সব সাংবাদিককে কার্ড প্রদান বাস্তবসম্মত নয়। তাই আগের মতো সহজ পদ্ধতিতে কার্ড ও স্টিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন আগামী রোববারের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে। যদি তা না হয়, তাহলে সাংবাদিক সংগঠনগুলো আবার বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।