ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ সংসদীয় আসনে কাস্ট হওয়া সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭ আসনে ভোট হয়। যাতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০৯ জন বিজয়ী হয়। দুটো আসনে ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আসনগুলোতে বিএনপি প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করে ৬৮ আসনে বিজয়ী হয়। যাতে প্রদত্ত ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন ২৫৭ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট করে একটি আসনে বিজয়ী হলেও পেয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ৩৪ আসনে রিকশা প্রতীকে কোন আসন না পেলেও ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। ২৭৪ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ ৪৯শতাংশ ভোট পেয়ে ২৩০ আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে বিএনপি ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ৩০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় বসেছিল। ২০০১ সালে বিএনপি ৪০ দশমিক ৯৭ শতা্ংশ ভোট পেয়ে ১৯৩ আসন, আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোটে ৬২ এবং বিএনপি জোটের শরিক জামায়াত ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোটে ১৭টি আসন পেয়েছিল। ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটে ১৪৬ আসন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ, ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ভোটে ১১৬ আসনে বিএনপি, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ভোটে জামায়াত পেয়েছিল ৩টি আসন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোটে ১৪০ আসনে বিএনপি, ৩০ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোটে ৮৮ আসনে আওয়ামী লীগ, ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোটে ১৮ আসনে জামায়াত এবং ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোটে ৩৫ আসন পেয়েছিল জাতীয় পার্টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোট পেলেই পিআরে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে একটি আসন পাবে কোন রাজনৈতিক দল। প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছেন সে হিসাব বের করে নির্বাচন কমিশন। রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সেটি হস্তান্তর করে বলে সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনে ৫০ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯ টি, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২, খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয় সাতটি আসনে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেনি ইসি। আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীর বেশি ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপি জোট হতে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল, বিজেপি গরুর গাড়ি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল। এর খেজুর গাছ ৪ টি আসনে নির্বাচন করে পায় শুন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট, গরুর গাড়ি শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, ট্রাক শুন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাথাল প্রতীক শুন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, কোদাল শুন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জোটের আরেক শরিক এনডিএম ৮ আসনে নির্বাচন করে ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ববি হাজ্জাজ দলটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করে। এ জোটে বিএনপি ছাড়া কোন দলই এক শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি। এ জোট মোট ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে বিএনপি জোট ৫১ আসন পাবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশের এমপি নির্বাচিত হয়েছে। এ জোটের জামায়াত দাড়িপাল্লায়, এনসিপি শাপলা কলি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা, খেলাফত মজলিস দেয়াল ঘড়ি, এলডিপি ছাতা, এবি পার্টি ঈগল, লেবার পার্টি আনারস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বটগাছ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি বই, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ফুলকপি প্রতীকে নির্বাচন করেন। ঈগল শুন্য দশমিক ২৮ শতাংশ, দেয়াল ঘড়ি শুন্য দশমিক ৭৬, বটগাছ প্রতীক শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বিডিপি শুন্য দশমিক ১৭ শতাংশ, আনারস শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বই শুন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, ছাতা শুন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জামায়াত জোট এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ছাড়া বাকী দলগুলো এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বধীন ১১ দলীয় জোট ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ হলে জামায়াত জোট ৩৯টি আসন পাবে।
বিগত তিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে নির্বাচন করে বাংলাওয়াশ হয়েছে। দলটির ১৯৯ জন প্রার্থী নির্বাচন করলেও এক শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি তারা। দলটি শুন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম পুরানো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ৬৩ জন কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করে শুন্য দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ২৮ আসনে তারা প্রতীকে নির্বাচন করে শুন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। নাগরিক ঐক্যের ১১ প্রার্থী কেটলি প্রতীকে নির্বাচন করে শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গণফোরাম ২০ আসনে উদীয়মান সূয্য প্রতীকে শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, জাকের পার্টি ৫ আসনে গোলাপফুল প্রতীকে শুন্য দশমিক ০২ শতাংশ, জাতীয় পার্টি-জেপি ১০ আসনে বাইসাইকেল প্রতীকে শুন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
আমজনতার দল প্রজাপতি প্রতীকে ১৫ আসনে নির্বাচন করে শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ আসনে আপেল প্রতীকে শুন্য দশমিক ০৩, ইসলামি ফ্রন্ট চেয়ার প্রতীকে ২০ আসনে শুন্য দশমিক ০৮, জনতার দল শুন্য দশমিক ০৫ শতাংশ, এনপিপি শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মোটরগাড়ি প্রতীকে শুন্য দশমিক ০২ শতাংশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট শুন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাপ শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মাইনোরেটি জনতা পার্টি শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ, রিপাবলিকান পার্টি শুন্য দশমিক ০২ শতাংশ ভোট, বিএসপি শুন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট শুন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট, বাসদ (মার্কসবাদী)শুন্য দশমিক ০২ শতাংশ ভোট, বাসদের প্রার্থীরা শুন্য দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাগপা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন), বিএনএফ, মুসলিম লীগ বিএনএল, সমঅধিকার পার্টি শুন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!