ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে "জিম্মি" হয়ে থাকবে না এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে বৃহত্তর সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে "বাধাগ্রস্ত" করবে না—এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিএনপি বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ‘দ্য হিন্দু’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে।
মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, বৃহত্তর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, হাসিনা সত্যিই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে শাস্তি দেওয়ার জোর জনদাবি রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারতের উচিত তাকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া। তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করাটা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক হবে না। আমরা বরং আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ গত সতেরো মাস ধরে বারবার ভারতকে শেখ হাসিনা এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের অন্য জ্যেষ্ঠ সদস্যদের ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে, তবে ভারত এসব অনুরোধে সাড়া দেয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা এবং অভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত তাঁর মন্ত্রী ও আমলাদের জন্য আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তিনি বলেন, “সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন গ্রেফতার হন, তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল, আর তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল সমস্যা রয়েছে, তবে সহযোগিতার সুযোগ থাকা ক্ষেত্রগুলোতে এর প্রভাব পড়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমেরিকা ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনেক জটিলতা থাকলেও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের কেবল একটি ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়।”
তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যখন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভারত সফরে গিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে ঢাকায় আতিথেয়তা দিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে হাসিনা যখন বাংলাদেশে ফেরার রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিল্লি সফর করেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “সেটাই ছিল রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের আওতায় ফারাক্কার পানির বিষয়টি সামনে আসবে, এরপর সীমান্ত হত্যার বিষয়ও রয়েছে—আমাদের অবশ্যই এসব ইস্যুতে কথা বলতে হবে।” তিনি যোগ করেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের আলোচনা করতে হবে। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা উন্মাদের মতো কথা বলছে।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে। তিনি রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতা বাংলাদেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমঝোতা আনতে পারেনি কারণ “অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনুসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি যোগ করেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনুসকে যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, তিনি তার বাইরে যেতে পারেননি।”
মির্জা ফখরুল বিএনপির ৩১-দফা কর্মসূচকে একটি সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ভারত ও বাংলাদেশকে ব্যবসা-বাণিজ্য, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার সুযোগ দেবে। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ রয়েছে। আমাদের তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে চাকরি পেতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ঋণের যে বোঝা রেখে গেছে, বিএনপি সরকারকে তা মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে দেখা হবে কোনগুলো অপচয়মূলক। তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের মধ্যে যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, কেবল সেগুলোই আমরা রাখব।”
সূত্র : দা হিন্দু
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!