ব্ল্যাকআউট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।   ছবি: সংগৃহীত

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সারাদেশে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উপলক্ষে ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও জরুরি সেবাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দিবস দুটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।

এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ প্রশাসন। এ কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলে গণহত্যা বিষয়ক বিরল আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ২৫ মার্চ বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

সভায় জানানো হয়, গণহত্যা দিবসের শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই দিবসকে সামনে রেখে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, যাতে কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।