ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান, জাতীয় ঈদগাহ, ঈদের নামাজ,
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামজ আদায়ের দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই জামাত আদায় করেন হাজারো মুসল্লি।

জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয় এবং দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাতে রমজান মাসে অর্জিত আত্মশুদ্ধি ও তওবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার তৌফিক কামনা করা হয়। একইসঙ্গে দেশকে সুরক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বিশেষ করে ইরানসহ মুসলিম দেশগুলোতে হামলা ও অস্থিরতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও আহ্বান করা হয়।

মোনাজাতে মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, বিশ্বের বহু স্থানে মুসলমানরা নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হচ্ছেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ সময় মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতির সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা কামনায় দোয়া করা হয়।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে।

প্রধান জামাতে অংশ নেন মো. সাহাবুদ্দিন এবং তারেক রহমান। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারীর জন্য ছিল আলাদা নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও অযুখানার ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে, জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাত শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বশান্তি, মুসলিম ঐক্য এবং মানবতার পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তার প্রতিধ্বনি।

আরবিএ/আরটিএনএন