সংকটের আগেই চাপ: আতঙ্কে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেল, তেল সংকট, পাম্পে ভিড়, যুদ্ধ, ইরান, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, মারামারি
শাহবাগ পাম্পে তেলের জন্য ভিড় সাধারণ জনগনের।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পুরোপুরি পড়ার আগেই দেশে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার বলছে, মজুত এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন—পাম্পে ভিড়, কোথাও তেল শেষ, কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে এখনো প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল, ১১ দিনের পেট্রোল এবং ৯ দিনের অকটেন মজুত রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। তবুও কেন এই চাপ—এই প্রশ্নই এখন সামনে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও ‘তেল শেষ’ লিখে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

অনেক চালক বলছেন, একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও তেল থাকলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সরবরাহে সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ সরবরাহ ঘাটতি নয়, বরং আচমকা চাহিদা বৃদ্ধি। যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। কিছু ফিলিং স্টেশনও বাড়তি তেল উত্তোলন করছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে অপরিশোধিত তেলের মজুত ও উৎপাদন এখনো চালু রয়েছে। তবে নতুন চালান দেরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারের বক্তব্যও একই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, দেশে এখনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কিছু জাহাজ এসেছে, আরও আসবে। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন বলছে, ডিপো থেকে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। ফলে অনেক পাম্পে প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও তা বর্তমান চাহিদার তুলনায় কম। এতে কোথাও পাম্প তেল পাচ্ছে না, আবার কোথাও কম পাচ্ছে।

তবে পাম্পে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ নাকচ করেছেন তিনি। তার দাবি, পাম্পগুলোর তেল ধরে রাখার সক্ষমতা নেই এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি রয়েছে।

এদিকে পাম্প মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক স্থানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ‘কৃত্রিম সংকট’। সরবরাহ ঠিক থাকলেও যদি চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে স্বল্প সময়েই বাজারে ঘাটতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, সংকট না থাকলেও আতঙ্ক যদি বাড়ে, সেটাই বড় সংকটে পরিণত হয়। তার মতে, অপ্রয়োজনীয় মজুত বন্ধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আমদানির সূচি ব্যাহত হলে এবং একই সঙ্গে চাহিদা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে।