আলোচিত সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, “তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।”
২০০৭ সালের আলোচিত এক-এগারো-এর সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন। সে সময় তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়।
২০০৬ সালের শেষদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘ওয়ান-ইলেভেন’ অধ্যায়। পরে ফখরুদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে সেনা-সমর্থিত সরকার গঠিত হয়, যেখানে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাসুদ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বিএনপির নেতা তারেক রহমানসহ শীর্ষ রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়। ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওপরে তুলে শূন্য থেকে ফ্লোরে ফেলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথা তখন জানা যায়। জেনারেল অব. মাসুদের তত্ত্বাবধানে কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা পারিবারিক সূত্রে খালেদা জিয়া পরিবারের আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান এবং গুরুত্বপূর্ণ নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পান। মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের দেড় বছরের মাথায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের জুনে লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন মাসুদ উদ্দিন। দলটির মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনিয়ম এবং প্রতারণার অভিযোগ ছাড়াও সাম্প্রতিক বিভিন্ন মামলায় তার নাম উঠে আসে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একাধিকটিতে তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রায় দুই বছর পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!