কর্মজীবী মানুষ
ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু হয়েছে। তাই ঢাকায় ফিরছে মানুষ।   ছবি: আরটিএনএন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে নাড়ির টান ছিঁড়ে জীবিকার তাগিদে কর্মজীবী মানুষ আবারও ফিরছেন ব্যস্ত নগরীতে।

তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি রাজধানীর গতি। সড়কে নেই চিরচেনা যানজট, অনেক জায়গায় যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে নগরবাসী স্বস্তিতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলেছে। সচিবালয়, মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মজীবী মানুষের পদচারণায় অফিসপাড়া আবারও মুখর হয়ে উঠছে। তবে এখনো অনেকেই অতিরিক্ত ছুটিতে থাকায় রাজধানী পুরোপুরি কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই দীর্ঘ যানজট বা ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকার চাপ। সড়কগুলো ফাঁকা থাকলেও ট্রাফিক সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এদিকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ দেখা গেছে বিভিন্ন প্রবেশপথে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও গাবতলী-সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে, ফেরার সময়ও একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়তি ভাড়া না দিলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

রেলপথে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও কিছু ট্রেন বিলম্বে চলায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবুও অধিকাংশ যাত্রী নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে বেছে নিচ্ছেন।

নৌপথেও ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সদরঘাটে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোতে যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা গেছে, যদিও এখনো ঈদের আগের মতো অতিরিক্ত ভিড় হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামনে আরও তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই এখনো ঢাকায় ফেরেননি। ফলে আগামী কয়েকদিন রাজধানীমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে। সপ্তাহের শেষ নাগাদ ঢাকা আবার তার চিরচেনা ব্যস্ত রূপে ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।