সিআইডি নতুন প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ (বিপিএম) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সিআইডি সদর দপ্তর, ঢাকায় এক বিদায়ী সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন সিআইডি প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
একই অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানকারী জনাব মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সততার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং কুষ্টিয়া, ভোলা, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন; জাতিসংঘের African Union-United Nations Hybrid Operation in Darfur (UNAMID)-এ পুলিশ অফিসার (P-4) হিসেবে দায়িত্ব পালন তার পেশাগত জীবনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি অপারেশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে EMBA এবং Applied Criminology and Police Management বিষয়ে MACPM ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম করে তুলেছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি সিআইডিকে আরও গতিশীল, পেশাদার এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে কোনো প্রধান বা ব্যবস্থাপক সফল হতে পারেন না—প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই প্রকৃত সহযোগিতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বিশেষভাবে সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি। একই সঙ্গে সদস্যদের উৎসাহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণের জন্য সিআইডিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক টুলস বিদ্যমান। তবে এরপরও কেউ দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী থাকলে তার জন্য সিআইডিতে স্থান নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে সিআইডির স্বার্থে এবং বাংলাদেশ পুলিশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সিআইডিকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি “এপেক্স ইনভেস্টিগেশন ইউনিট” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যাতে সিআইডির নাম শুনলেই জনগণের মনে আস্থা ও বিশ্বাস জন্মায়।
নবাগত সিআইডি প্রধান তার বক্তব্যে বিদায়ী সিআইডি প্রধান জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা-এর কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার নেতৃত্বে সিআইডির যে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও ব্র্যান্ডিং অর্জিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদায়ী প্রধান বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সেখান থেকেও সিআইডির কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বিদায়ী প্রধানের গৃহীত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অসমাপ্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী প্রধানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
বিদায়ী সিআইডি প্রধান জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা তার বক্তব্যে আবেগঘনভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি মোট ৩১৩ দিন সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই স্বল্প সময়ে একটি দক্ষ, সমন্বিত ও প্রতিশ্রুতিশীল টিম গড়ে তোলাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, সিআইডি শুধুমাত্র একটি সংস্থা নয়, বরং এটি একটি পরিবার—যেখানে সকল সদস্য আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে শক্তিশালী তদন্ত সংস্থা এবং এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। দায়িত্ব শেষে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিআইডির কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মানিলন্ডারিং ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের জটিল ও সংবেদনশীল মামলাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করে একটি সুসংগঠিত অবস্থানে আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যেখানে প্রায় ৬০০টি মামলা পেন্ডিং ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রায় ৫০-এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি তদন্ত কার্যক্রমে ক্রাইম সিন প্রটেকশন ও প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ক্রাইম সিন সুরক্ষা তদন্তের মূল ভিত্তি।” সিআইডির দক্ষ ফরেনসিক টিমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এভিডেন্স-ভিত্তিক তদন্ত জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে তদন্ত আরও নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!