১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশ বঞ্চিতদের দ্রুত নিয়োগের দাবিতে  মানববন্ধন 
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশ বঞ্চিতদের দ্রুত নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন।   ছবি: আরটিএনএন

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ এবং ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ বঞ্চিত প্রায় ৬ হাজার প্রার্থীর প্রধান দুই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লাখ প্রতিযোগীর মধ্যে “Preliminary, Written এবং Viva” পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র ৩.২৪% প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার প্রার্থী এখনও সুপারিশ বঞ্চিত। এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে এনটিআরসিএ পর্যাপ্ত শূন্যপদ যুক্ত না করা উল্লেখ করা হয়েছে।

একজন বক্তা বলেন, “আমরা প্রিলি, লিখিত ও ভাইভার কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি, কিন্তু এখন নিয়োগের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আমাদের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে।”

মানববন্ধনে প্রধান দাবি হিসেবে তারা বলেন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীকে দ্রুত শূন্যপদে সরাসরি সুপারিশ / ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি Cycle-2 / পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের আগে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে নতুন ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, লিখিত পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র MCQ ও ভাইভার পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত ১৮তম উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

একজন প্রার্থী জানান, “আমাদের একজন সহপাঠী, যমুনা রায়, সুপারিশ বঞ্চিত হওয়ার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এটি আমাদের সকলের জন্য একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা।”

বক্তারা আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট গভীর হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন গেস্ট টিচারের মাধ্যমে পাঠদান করছে। অথচ যোগ্য প্রার্থীরা বেকার। এটি রাষ্ট্র এবং শিক্ষানীতি নির্ধারকদের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।”

মানববন্ধনটি অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ ও সংবেদনশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন।