ভোজ্য তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশজুড়ে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, মজুতদারি ও কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং সীমান্তপথে পাচার ঠেকাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় যৌথ অভিযান চালায় বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাব। অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামে দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়, যা ৯টি ব্যারেলে সংরক্ষিত ছিল।
অভিযানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য-স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে মজুদ, বোতলজাত করে ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামের স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ ধরনের প্রতারণা জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ৫,৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য আসে। এর আগে ২০২৪ সালে ১৩,১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০,০৯২ লিটার-মোট ৪৩,২৬৯ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করে বিজিবি, যা সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য দমনে তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ও বিশেষ টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি চোরাচালানের রুট চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তবর্তী গুদামগুলোতে জোরদার তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ মজুত জব্দ করা হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটার অঞ্চলের বাইরেও এই অভিযান বিস্তৃত করা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। ভোজ্য তেল পাচারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে সবাইকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা তাদের অঙ্গীকারের অংশ। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ভবিষ্যতেও অবৈধ মজুত, পাচার ও বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!