ইরানি শিশু হত্যা, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানি শিশু হত্যা বিরোধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূত।   ছবি: আরটিএনএন

ইরানের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শিশুদের হত্যার দায়ে আগ্রাসী এ দুটি অপশক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনী থেকে এ দাবি জানানো হয়।
আবেগঘন এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শহীদ ইরানি শহীদ শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী এবং যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রসান বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে রক্ত ভেজা হাতের ছাপ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি, ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সংহতি জানাতে জড়ো হন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। সমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিল সারিবদ্ধভাবে রাখা ছোট ছোট প্রতীকী কফিন, যা ইসরাইলি হামলায় নিহত নিরপরাধ ইরানি শিশুদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে। এই দৃশ্য উপস্থিত সবার মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান তার বক্তব্যে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আজ শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। ইরানের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা বিশ্ববিবেকের ওপর চপেটাঘাত। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো যুদ্ধই শিশুদের মৃত্যুর কারণ হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক স্বার্থে শিশুদের জীবন কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কর্মসূচিতে একটি ‘যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি’ পালিত হয়। যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে পাঠানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলায় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, সদস্য সচিব মুহিব খান, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরাইলি ও মার্কিন আগ্রাসন রুখতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান উপস্থিত শিক্ষিক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকরা। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে।