সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম   ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক গল্প তখন প্রতিদিনই নতুন নতুন আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। ভোট ও জোটের রাজনীতি মোড় নিচ্ছে নতুন বাঁকে।

আগামী সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। যেন গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে মাহফুজের রাজনৈতিক পথরেখা।

তবে মাহফুজ আলমের ঘনিষ্ঠ ও এনসিপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে—মাহফুজ আলম আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলেই যোগদান করছেন না। এবং স্বতন্ত্র নির্বাচনের পথেও যাচ্ছেন না সদ্য সাবেক এ তথ্য উপদেষ্টা।

তাঁর আসন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ উপজেলা)। এ আসনে সম্ভাব্য জামায়াত-সমর্থিত জোট থেকে নির্বাচন করতে পারেন সাবেক এই ছাত্র উপদেষ্টার যমজ ভাই মাহবুব আলম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে অনেকে মনে করছেন—মাহফুজ আলম মূলত তাঁর ভাইকেই নিজের প্রক্সি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছেন। মাহফুজ আলম ও মাহবুব আলম উভয়ই ‘টুইন’ বা যমজ ভাই। তাঁদের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া ও চলাফেরা অনেক মজবুত। এজন্যই মাহফুজ আলম ভরসা রাখছেন তাঁর নিজের ভাইয়ের ওপরেই।

তবে আরও কিছু সূত্র নিশ্চিত করেছে —মাহফুজ আলম মূলত এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোটে আগ্রহী ছিলেন। যদি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হতো, তাহলে মাহফুজ আলম নির্বাচনে অংশ নিতেন এবং রাজনৈতিক দলেও যুক্ত হতেন। কিন্তু জামায়াত জোটে এনসিপি আসায় মাহফুজ রাজনীতি না করারই আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৫ আগস্টের পর থেকে কথা-কাজে বিভিন্নভাবে জামায়াতবিরোধী অবস্থান জানান দেন মাহফুজ আলম। মতের অমিল হওয়ায় জামায়াত-শিবিরকে ‘জিল্লতি জীবন’ ভোগ করার কথাও বলেছিলেন তিনি। এছাড়াও উপদেষ্টা থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। জোটে আসলেও দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে মনোনয়ন দেবেন না বলে এনসিপিকে জানিয়ে দেয় জামায়াত। এটাও মাহফুজের রাজনীতিতে আপাতত বিরতি নেওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এর আগে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করেন মাহফুজ আলম। কিন্তু বিএনপি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করার ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারেননি তিনি। বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিতে হয় তাঁকে। তবে বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিল চওড়া হলে মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতেও পারে।

মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। নিয়োগ পান গত বছরের ২৮ আগস্ট। এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তবে সে সময় তাঁকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর তথ্য উপদেষ্টার চেয়ারে বসেন মাহফুজ।

১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মাহফুজ আলম। আর তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয় ১১ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই।

যে নির্বাচনের জন্য উপদেষ্টার পদ ছাড়লেন, এখন সে নির্বাচন থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে হচ্ছে মাহফুজ আলমকে। বাংলার রাজনীতিতে এ এক রূঢ় বাস্তবতা।

তবে দলীয় রাজনীতি ছাড়লেও, রাজনীতির পথ ছাড়ছেন না মাহফুজ আলম। এনসিপির আধ্যাত্মিক গুরু খ্যাত এ ছাত্র তাত্ত্বিক এখন নিজস্ব কর্মী গঠনে মনোযোগী হবেন বলে জানিয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র। এ জন্য চালাবেন পাঠচক্র।