ডা. শফিকুর রহমান
ঠাকুরগাঁও ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায প্রধান অতিথির ভাষণ দেন ডা. শফিকুর রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করার ঘোষণা দিলেন দলটির আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান। কোনো ধরনের বৈষম্য না করে আল্লাহকে ভয় করে দেশ পরিচালনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান এমটা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে, জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত আমীর।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা চাঁদাবাজদের সমর্থন করে না এবং নিজেরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয় বরং চাঁদাবাজদের রুখে দিতে শপথবদ্ধ- তাদেরই নির্বাচিত করুন। যাদের হাতে কোনো ধর্মগুরু, কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষ নির্যাতিত হবে না। যারা ক্ষমতায় গেলে বিদেশে বন্ধু খুঁজবে, কিন্তু প্রভু বানাবে না। ঐক্যভিত্তিক সমাজ গড়ার শপথ নেওয়া সেই ১০ দলীয় ঐক্যকেই নির্বাচিত করুন ।”

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এবার শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নয়, মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলীয় ঐক্যের একটি ঠিকানাকে ভোট দিন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, ৫৪ বছরের পচাগলা রাজনীতি ও বৈষম্য পরিবর্তন করতে হলে সকল ধরনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশে ডা. শফিক বলেন, “আল্লাহর মেহেরবানিতে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গকে গৌরবের কৃষির রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে, যাতে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এ অঞ্চলের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে একটি করে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করা হবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশিরা পারলে আমরাও পারব।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরিতে প্রবেশের আগে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করে তাকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। আমরা বেকারভাতা দিতে চাই না, কাজ দিতে চাই। বেকারভাতা অপমানজনক; আমরা সম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই। আমরা জাতিকে বেকার বানাতে চাই না।”

জনসভায় জামায়াত আমির ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেন— ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মাস্টার মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

সভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, “চাঁদাবাজরা মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। সিন্ডিকেটের হাতে বাংলাদেশ আবারও বন্দী হয়ে পড়েছে। তেজগাঁও কলেজে একদল ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী একজন ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আরেকটি ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে।”

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক সোহেল রানা, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ), সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা যতীশ বাবু, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রকিবুল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি সাঈদ আহমেদ সাইফী।