নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।   ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড একটি “প্রতারণার প্যাকেজ”। এসব কার্ডের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের আসল সংকট কৃষক কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ড নয়; দেশের প্রকৃত সংকট হচ্ছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের ১০ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলমের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের বড় সংকট হচ্ছে ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের বিচারের আওতায় না আনা। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সে লক্ষ্যেই এনসিপি পরিকল্পনা ও ইশতেহার নিয়ে জনগণের সামনে কথা বলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলছি। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের অগ্রাধিকার।’

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাহাজ্জুদের নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত থাকার আহ্বানের আড়ালে কেন্দ্র দখল করে সিল মারার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে। যারা ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে একই জনসভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, দেশে আবারও মিডিয়াকে দলীয়করণের পথে যেতে দেখা যাচ্ছে। উপরে উপরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একদিকে হেলে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে এ দেশের অনেক মিডিয়া দালালি করেও ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়েছে।”

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী, পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাসান বান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক মো. মাছুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা আহ্বায়ক মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।