ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ বিজয় লাভের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। নবগঠিত সরকারের মন্ত্রীসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩টি মন্ত্রণালয়ের (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়) দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি।
ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ৩ হাজার ৩০০ ভোট বেশি পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন সরকারকে হারিয়ে নির্বাচিত হন ৫৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন।
পেশায় ব্যবসায়ী এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানি 'প্লিজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রবিউল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একই একই সঙ্গে ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা শেখ রবিউল আলম ঢাকার হাতিরপুলে বসবাস করলেও স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট।
নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় নবনিযুক্ত এই মন্ত্রীর সম্পদ, মামলা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানা যায়, স্নাতকোত্তর পাস করা রবিউল আলমের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া চাকরি (ডিরেক্টর রেমুনারেশন) থেকে তিনি বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করেন। সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শেখ রবিউল আলমের হাতে নগদ অর্থ ছিল ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর হাতে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ৪ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮০ টাকা। এছাড়া শেয়ার বাজারে তার নামে ২১ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ১৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত মোটরযান হিসেবে তার নামে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি রয়েছে। স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে ৪০ ভরি সোনা থাকলেও নিজের নামে কোনো সোনা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
নিজের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে তার। সব মিলিয়ে তার নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য (অর্জনকালীন) ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮০ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকা। তবে আয়কর রিটার্নে তিনি নিজের সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৯৫ টাকার সম্পদ রয়েছে।
হলফনামায় তিনি তার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন। তিনি একক বা যৌথভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলমের বিরুদ্ধে অতীতে ও বর্তমানে একাধিক মামলা রয়েছে বা ছিল। হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন বা তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে শাহবাগ ও হাজারীবাগ থানায় তদন্তাধীন মামলা ছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। রাজনৈতিক কারণে হওয়া ২৮টি মামলার সবগুলোতেই খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার প্রকৌশলী তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউলকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!