দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও আইনি লড়াই চলেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮ আসনে জয় লাভ করেছে। এর ফলে বর্তমানে বিরোধীদলে রয়েছে জামায়াত জোট। সম্প্রতি দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছে জামায়াত।
মূলত স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল হিসেবে জামায়াতের গায়ে যে তকমা লেগে আছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করা দলটির বড় লক্ষ্য। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ‘দেশপ্রেমিক’ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চায়।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে, জামায়াত দেখাতে চায় তারা সেই ঐক্যের অংশীদার। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ইচ্ছুক।
জামায়াত এখন দলটি ‘সফট পাওয়ার’ এবং ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কৌশল গ্রহণ করেছে। বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো সেই কৌশলেরই একটি অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিভাজনের রাজনীতি শেষ করে সব দলের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ। সমালোচকদের মতে, এটি কেবলই একটি কৌশলগত অবস্থান। দলটির আদর্শিক পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এখন ‘প্রেশার গ্রুপ’ থেকে পূর্ণাঙ্গ ‘পলিটিক্যাল প্লেয়ার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। স্মৃতিসৌধে যাওয়া কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী ঘোষণা যে—তারা বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি অনুগত থেকে রাজনীতি করতে চায়।
এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সৌধ এলাকায় নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, স্পিকার, কূটনীতিক, বিরোধী দলের নেতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দল হিসেবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগেও গিয়েছে জামায়াত। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট জেতার পরে ওই সময়ও স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছিল জামায়াত। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!